পঞ্চপাণ্ডবের মামাতো ভাই হয়েও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেন পাশা খেলার আগেই পাণ্ডবদেরকে বাঁধা প্রদান করলেন না? অথবা তিনি অন্তর্যামী হয়েও কেন সেই ষড়যন্ত্রমূলক পাশা খেলায় পাণ্ডবদেরকে জিতিয়ে দিলেন না? আবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পরম সখী দ্রৌপদী বিনা দোষে এবং রজঃস্বলা অবস্থায় বস্ত্রহরণের মত নির্মম ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার আগেই কেন তিনি তাঁকে সাহায্য করলেন না? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন দ্রৌপদীর সম্ভ্রম রক্ষা করলেন তখন আর কতটাই বা সম্ভ্রম বাকী ছিল দ্রৌপদীর? এ প্রশ্ন, যারা মহাভারত পড়েছেন তাঁদের সকলের। প্রিয় দর্শক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ঠিক এই প্রশ্নগুলোই করেছিলেন তারই আরেক সখা উদ্ধব। আর উদ্ধব গীতায় উদ্ধবের প্রশ্নের উত্তরে এই প্রশ্নগুলোর কি উত্তর দিয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তা জানবো আমাদের আজকের আলোচনায়।
উদ্ধব ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুড়তুতো ভাই, পরম সখা, পরম ভক্ত, বিশ্বস্ত মন্ত্রী, বৃহষ্পতির শিষ্য, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী এবং বেদ, বেদান্ত, রাজনীতি ও দর্শনে অত্যন্ত পারদর্শী। সমবয়সী হওয়ার কারনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও উদ্ধবের মধ্যকার সখ্যতা ছিল শৈশব থেকেই। তবে শৈশব থেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছায়া সঙ্গী হওয়ার সত্ত্বেও উদ্ধব কখনোই তাঁর কাছ থেকে কোনো সাহায্য বা বর প্রার্থনা করেননি।
তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন তাঁর অবতার লীলার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌছেছেন, তখন একদিন তিনি নিজে উপযাচক হয়ে উদ্ধবকে বললেন, “হে সখা, আমার এ অবতারে কত মানুষকে আমি সাহায্য করেছি, বর দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রায় সর্বক্ষণ আমার সান্নিধ্য লাভ করেও আমার কাছে কখনো কিছু চাও নি। আমার অবতার লীলা সমাপন করার সময় আসন্ন। তাই আমি তোমাকেও কিছু কৃপা করার আনন্দ লাভের মাধ্যমে এ অবতারে আমার লীলা সমাপ্ত করতে চাই।”
উদ্ধব বস্তুগত বা পার্থিব কোন বরের প্রতি মোহাবিষ্ট ছিলেন না। তিনি জানতেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার। তবে শৈশব থেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রদত্ত্ব শিক্ষা আর তাঁর কৃতকর্মের মধ্যে কিছু আপাত অসামঞ্জস্য তাকে বিহ্বল করত। এবং এই অসামঞ্জস্যগুলোর ব্যখ্যা জানতে তিনি সবসময় উদগ্রীব থাকতেন।
তাই তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বললেন, “আপনি আমাদের জীবনযাপনের একটা পথ দেখিয়েছেন, কিন্তু আপনি নিজে চলেছেন অন্যভাবে। আপনার মহাভারত লীলায় আমি আপনার অনেক লীলার কিছুমাত্রই বুঝিনি। আমি আপনার কর্ম এবং তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে অত্যন্ত উদগ্রীব, কৃপাপূর্বক আমার অভিলাষ পূর্ণ করবেন কি?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “বেশ। কুরুক্ষেত্রের ময়দানে যে জ্ঞান আমি অর্জুনকে প্রদান করেছিলাম তা আজ শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা নামে প্রসিদ্ধ। এবং হে উদ্ধব, আজ আমি তোমাকে যে অমূল্য জ্ঞান প্রদান করছি তা উদ্ধব গীতা নামে জগতে খ্যাত হবে। তুমি নিঃসংকোচে প্রশ্ন করতে পারো।”
উদ্ধব বললেন, “প্রথমেই আমাকে বলুন, প্রকৃত বন্ধু বা সখা কে?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “প্রকৃত বন্ধু বা সখা হচ্ছে সেই, যে বন্ধুর বিপদে সাহায্যের আহ্বানের অপেক্ষা না করেই বন্ধুর সাহায্যে চলে আসে।”
উদ্ধব বললেন, “কিন্তু আপনি তো পাণ্ডবদের পরম মিত্র ছিলেন, তারা আপনাকে আপাদবান্ধব তথা সব বিপদের পরিত্রাতা বলে বিশ্বাস করতেন। আর আপনি তো শুধু বর্তমান নয়, অতীত, ভবিষ্যৎ সবই জানেন। তাছাড়া আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানীও বটে। আপনি কি সত্যিই তাদের সাথে প্রকৃত বন্ধুর মতো আচরণ করেছেন?”
উদ্ধবের অভিযোগের তীর কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরে মৃদুভাবে হাসলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
উদ্ধব বলে চললেন, “আপনি কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলা থেকে বিরত রাখলেন না? আর যখন তা করলেন না, তবে কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে ভাগ্যকে পরিচালিত করলেন না যাতে অন্তত ধর্মের জয় হতো। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির ধন-সম্পদ, রাজ্য ও নিজেকে হারানোর পর আপনি তো পাশা খেলা বন্ধ করতে পারতেন। পাশা খেলার দণ্ড থেকে আপনি তাঁকে রক্ষা করতে পারতেন। আপনি তাও করেননি।
দুর্যোধন যখন প্রস্তাব করেছিল যে, পাণ্ডবদের সব সৌভাগ্যের উৎস দ্রৌপদীকে পাশার বাজী রাখলে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের সব হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আপনি তো তখন আপনার ঐশ্বরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পাশার গুটিকে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে চালিত করতে পারতেন। কিন্তু আপনি কেন তাঁদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে তা করলেন না? বরং আপনি তখন এলেন, যখন দ্রৌপদী তার সম্ভ্রম প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। আর আপনি দাবি করেন যে, আপনি বস্ত্র দিয়ে তার সম্ভ্রম রক্ষা করেছেন?
সভায় এতগুলো মানুষের মধ্যে একজন স্ত্রীলোকের চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে এনে তার পরনের বস্ত্র প্রায় খুলে ফেলার পর তার কোনো সম্মান আর বাকি ছিল কি? আপনি আসলে তার সম্মানের কতটুকু রক্ষা করলেন? চরম বিপদের সময় আপনি সবাইকে রক্ষা করেন বলে আপনার নাম আপদবান্ধব। কিন্তু সেই বিপদের সময়ই যদি আপনি সাহায্য না করলেন,তাহলে এ সাহায্যের অর্থ কী? এই কি ধর্ম? অথবা এটাই কি আপনার মিত্রধর্ম?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ খেয়াল করলেন, উদ্ধব যখন এই প্রশ্নগুলো করছিলেন তখন তাঁর দুই নয়ন থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। আসলে এ প্রশ্ন শুধু উদ্ধবের একার নয়, আজকেও যারা মহাভারত পড়ছেন বা জানছেন, তাদের অনেকের মনেই এই একই প্রশ্নের উদয় হয়। আর একারনেই হয়ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর লীলাকালেই উদ্ধবকে দিয়ে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করিয়ে নিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহাভারতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সঠিক ধারণা পোষন করতে পারেন।
যাইহোক উদ্ধবের প্রশ্নের উত্তরে শ্রীভগবান হেসে বললেন, “হে সখা, এ পৃথিবীর নিয়ম হচ্ছে এখানে শুধু তারাই জয়লাভ করে যাদের ভালো-মন্দ পার্থক্যের বিচারবোধ আছে। ঠিক তেমনই দ্যূতক্রীড়া সভায় যুধিষ্ঠিরের বিবেক তথা ভালো-মন্দের বিচারবোধ কাজ করেনি। কিন্তু দুর্যোধন তাঁর বিবেককে কাজে লাগিয়েছিলেন বিধায় সেই খেলায় তাঁর জয় হয়েছিল।” শ্রীকৃষ্ণের এই কথায় উদ্ধব আরো দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়লেন। “দুর্যোধনের আবার বিবেকবোধ কোথা থেকে এল? আর স্বয়ং ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরই বা কিভাবে বিবেক বর্জিত হতে পারেন?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের এই দ্বিধা বুঝতে পারলেন। তিনি বললেন, “দুর্যোধন অনেক ঐশ্বর্য, বাহুবল, যুদ্ধবিদ্যা, কূটনীতি, গদাযুদ্ধ প্রভৃতি যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু দুর্যোধন জানতেন পাশা খালায় তিনি খুব বেশী পারদর্শী নন। একারনে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে পাশা খেলায় সর্বাধিক পারদর্শী তাঁর মামা শকুনিকে নিযুক্ত করেছিলেন। এটাই ছিল দুর্যোধনের বিবেক বা ভালো-মন্দের বিচারবোধ। কিন্তু মহারাজ যুধিষ্ঠির কি করলেন? তিনি পাশা খেলায় ছিলেন অনভিজ্ঞ এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি দুর্যোধন এবং শকুনির দুষ্টবুদ্ধির সাথেও পরিচিত ছিলেন। মহারাজ যুধিষ্ঠির এটাও জানতেন কৌরবগণ তাঁকে খেলার ছলেও বিপদে ফেলতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মহারাজ যুধিষ্ঠির এত জ্ঞানী হয়েও পাশা খেলার আড়ালে কৌরবদের চক্রান্তকে অনুধাবন করতে পারেন নি। তাছাড়া দুর্যোধন যেমন তাঁর পক্ষ থেকে মামা শকুনিকে নিযুক্ত করেছিলেন, তেমনি মহারাজ যুধিষ্ঠিরও আমাকে তাঁদের পক্ষে নিযুক্ত করতে পারতেন, তাঁরা তো আমারও পিসতুতো ভাই। আর এভাবে নিজের বিবেক বিসর্জন দেওয়ার কারনেই তাঁদেরকে সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। একটু ভেবে দেখো তো, যদি পাশা খেলাটা আমার এবং মামা শকুনির মধ্যে সংঘটিত হত, তাহলে তাঁর ফলাফল কি হতে পারতো? যদিও আমি পাশা খেলার সময় হস্তিনাপুর থেকে অনেক দূরে ছিলাম, কিন্তু তবুও কি মহারাজ যুধিষ্ঠির আমাকে স্মরণ করে আমার সাহায্য প্রার্থনা করতে পারতেন না? এবার তুমিই বলো, যে বা যারা বিপদে আমার শরণাপন্ন হয় না তাঁদেরকে আমি কিভাবে ক্ষমা করবো?
যখন মহারাজ যুধিষ্ঠির তাঁর ভ্রাতা ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেবও হেরে গেলেন, তখন পাণ্ডবগণ দুর্যোধনকে অভিসম্পাত, আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষারোপ করায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু এদের মধ্যে একজনও কি আমাকে স্মরণ করতে পারতেন না? এখানেই শেষ নয়, দুর্যোধনের আদেশে দুঃশাসন যখন একবস্ত্রা, রজঃস্বলা দ্রৌপদীর চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে সভায় নিয়ে এলো, দ্রৌপদী কিন্তু তখনও আমাকে স্মরণ করেনি। দ্রৌপদী তাঁর নিজের সামান্য ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতিবাদ করছিলেন মাত্র।
শেষমেশ, দুঃশাসন যখন তার বস্ত্র হরণ করতে শুরু করল, তখন দ্রৌপদীর কিছুটা শুভবুদ্ধির উদয় হলো। নিজের শক্তির ওপর আস্থা হারিয়ে তখন তিনি চিৎকার করতে শুরু করলেন, “হে হরি অভয়ম্, হে কৃষ্ণ অভয়ম্”। আর ঠিক তখনই আমি তাকে সাহায্য করার সুযোগ পেলাম, দ্রৌপদী আমাকে ডাকা মাত্রই আমি ছুটে গিয়েছি। এখন তুমিই বল, আমার দোষটা কোথায়?”
উদ্ধব বললেন, “প্রভু, আমি আপনার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট। কিন্তু তাঁর মানে কি এই যে, শুধু আপনার শরণাপন্ন হলেই আপনি আপনার ভক্তের সাহায্যে এগিয়ে আসেন আসেন, নিজে থেকে ধর্ম রক্ষার জন্য আসেন না?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হেসে বললেন, “উদ্ধব, পৃথিবীতে সবারই জীবন চালিত হয় তাদের কর্মফলের ওপর। আমি এতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করি না। তবে আমি কর্তার অত্যন্ত কাছে থেকে সকল কর্মের সাক্ষী হই মাত্র। আর এটাই ঈশ্বরের প্রকৃত ধর্ম।”
উদ্ধব এবার একটু অনুযোগের সুরে বললেন, “ও, তাহলে আপনি আমাদের খুব কাছে থেকে আমাদের পাপকর্ম করতে দেখতে থাকবেন আর আমরা পাপকর্ম করতেই থাকবো? আপনি কি এটাই চান যে আমারা একের পর এক পাপ করতেই থাকি, ভুল করতে থাকি, আর তার ফলে শাস্তি পেতে থাকি?”
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “হে উদ্ধব, তোমার প্রশ্নের গভীরতা অনুধাবন করো। তুমি যদি বিশ্বাস করো যে, আমি তোমার খুব কাছে থেকে তোমার সকল কর্মের সাক্ষী হচ্ছি, তখন কি তুমি কোন খারাপ বা অনৈতিক কাজ করতে পারবে? মনুষ্য ভাবে, আমার অজ্ঞাতেই তাঁরা অনেক কিছু করতে পারে, আর ঠিক তখনি তাঁরা বিপদে পড়ে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের অজ্ঞতা ছিল এই যে, তিনি ভেবেছিলেন তিনি আমার অজ্ঞাতে পাশা খেলবেন। যদি তিনি সত্যি এটা অনুধাবন করতেন যে, আমি সবসময় সবার সঙ্গে তাদের কর্মের সাক্ষী থাকি, তাহলে কি পাশার ওই সভা ভিন্নভাবে শেষ হতো না?”
উদ্ধব বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন, ভক্তিতে হলেন আপ্লুত। তিনি বললেন, “কী সুগভীর দর্শন! কী সুমহান সত্য! আমি বুঝতে পেরেছি আপনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও অকর্তা। আপনি আমাদের সকল কাজের সাক্ষী হয়েও আমাদের কর্মে হস্তক্ষেপ করেন না। শুধুমাত্র আমরা যখন আমাদের অতি সন্নিকটে সর্বদাই আপনাকে উপলব্ধি করি তখন আমাদের পক্ষে কোন খারাপ কাজ করা সম্ভব হয় না। আর এই চরম সত্য ভুলে গিয়ে এবং আপনার সর্বত্র উপস্থিতিকে ভুলে গিয়ে আমরা কর্ম করি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা।”
আসলে ঈশ্বর সর্বদাই আমাদের আমাদের অতি সন্নিকটে অবস্থান করেন কিন্ত তিনি অকর্তা। তবে কোন কাজে তাঁর শরণাপন্ন হলে তিনি নিজে অকর্তা হলেও আমাদেরকে সঠিক বুদ্ধি ও বিবেক দান করে আমাদেরকে ধর্মের পথে পরিচালিত করেন তিনি। আর ঠিক এই বিষয়টাকেই রূপকভাবে দেখানো হয়েছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অসীম শক্তি তিনি যুদ্ধে ব্যবহার করেননি। বরং তিনি থেকেছেন অর্জুনের অত্যন্ত সন্নিকটে, তাঁর রথের সারথী হয়ে। যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুন যখনই দ্বিধায় পড়েছেন এবং শ্রীভগবানের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, ঠিক তখনই ভগবান সরাসরি কোন কর্ম না করে অর্জুনকে সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরোক্ষভাবে তাঁকে সাহায্য করেছেন।