বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৭ সালের একাদশী তালিকা (Ekadashi List 2027 / Ekadashi Chart 2027) নিয়েই আজকের এই বিশেষ আয়োজন। হিন্দু ধর্মে একাদশী কেবল একটি তিথি নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম, ভক্তি এবং শ্রীহরি-স্মরণের এক মহাপবিত্র সাধনাপথ। সাধারণত বছরে ২৪টি একাদশী পালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পৌষ পুত্রদা, ষটতিলা, ভৈমী বা জয়া, বিজয়া, আমলকী বা আমলকীব্রত, পাপমোচনী, কামদা, বরুথিনী, মোহিনী, অপরা, পাণ্ডবা বা নির্জলা, যোগিনী, শয়ন বা শ্রী শ্রী হরিশয়নী, কামিকা, শ্রাবণ পুত্রদা বা পবিত্রা, অন্নদা বা অজা, পদ্মা বা প্বার্শ বা প্বার্শপরিবর্তনী বা জয়ন্তী, ইন্দিরা, পাশাঙ্কুশা বা পাপাঙ্কুশা, রমা, উত্থান বা প্রবোধিনী, উৎপন্না, মোক্ষদা এবং সফলা একাদশী।
এছাড়া অধিমাস, পুরুষোত্তম মাস বা মলমাস থাকলে সেই পুণ্যময় পর্বে আরও দুটি বিশেষ একাদশী যুক্ত হয়ঃ পদ্মিনী একাদশী ও পরমা বা কমলা একাদশী। বৈষ্ণব ভক্তদের জন্য এই পূর্ণাঙ্গ একাদশী তালিকা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক তিথি, উপবাস এবং পারণের সময় অনুসরণ করেই ব্রত পালন পূর্ণতা পায়।
তবে একাদশীর উপবাস-দিন ও পারণের সময়সূচী সবসময় একরকম হয় না। অনেক ক্ষেত্রে স্মার্ত, নিম্বার্ক এবং গোস্বামী সম্প্রদায়ের মধ্যে সামান্য মতভেদ দেখা যায়। তাই ভক্তদের সুবিধার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী ২০২৭ সাল, অর্থাৎ বাংলা ১৪৩৩–১৪৩৪ সালের স্মার্ত, নিম্বার্ক ও গোস্বামী মতে সঠিক, পূর্ণাঙ্গ এবং নির্ভুল একাদশী তালিকা বা সময় নির্ঘণ্ট এখানে উপস্থাপন করা হলো।
একাদশী তালিকা জানুয়ারী, ২০২৭ (পৌষ / মাঘ, ১৪৩২) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
সফলা একাদশী ২০২৭
সফলা একাদশী পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও ফলদায়ক ব্রত। ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে বর্ণিত সফলা একাদশীর ব্রতকথা থেকে জানা যায়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে বলেছিলেন যে, এই একাদশী তাঁকে বিশেষভাবে সন্তুষ্ট করে এবং বহু দান-দক্ষিণাযুক্ত যজ্ঞের থেকেও এর গুরুত্ব বেশি। সফলা একাদশী পালনকারী ব্যক্তি এজগতে ধন-সমৃদ্ধি এবং পরজগতে মুক্তি লাভ করে। এছাড়াও সফলা একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, চম্পাবতীর রাজপুত্র লুম্ভক বহু পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে বনবাসী হয়। সেখানে সে এক অশ্বত্থ বৃক্ষতলে বাস করতে করতে একদিন অজান্তেই দশমীর দিনে ফলাহার করে এবং একাদশীর রাতে অনাহারে ও অনিদ্রায় থেকে যায়। সেই রাতের ফল ভগবান নারায়ণ সফলা একাদশীর ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে পরদিন দৈববাণীর মাধ্যমে লুম্ভক রাজ্য, সম্মান ও পুণ্য লাভ করে। পরে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং জীবনের শেষে শ্রীভগবানের শরণে পৌঁছে যান। এই ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ ও পাঠ করলেও রাজসূয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী সফলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- সফলা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ২রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৭ই পৌষ ১৪৩৩), শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট (17:31 PM) থেকে।
- সফলা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ৩রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই পৌষ ১৪৩৩), রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিট (18:17 PM) পর্যন্ত।
- সফলা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ৩রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই পৌষ ১৪৩৩), রবিবার।
- সফলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৪ঠা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই পৌষ ১৪৩৩), সোমবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিট (09:56 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সফলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- সফলা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ২রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই পৌষ ১৪৩৩), শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট (18:00 PM) থেকে।
- সফলা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ৩রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই পৌষ ১৪৩৩), রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিট (18:46 PM) পর্যন্ত।
- সফলা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ৩রা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই পৌষ ১৪৩৩), রবিবার।
- সফলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৪ঠা জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ২০শে পৌষ ১৪৩৩), সোমবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট (10:25 AM) এর মধ্যে।
পৌষ পুত্রদা একাদশী ২০২৭
পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের পুত্রদা একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে বলেছিলেন যে, এই একাদশী সর্বপাপবিনাশিনী, কামনা পূরণকারী এবং এর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ব্রত কাহিনিতে ভদ্রাবতী পুরীর রাজা সুকেতুমান ও রানি শেব্যার সন্তানহীনতার দুঃখ তুলে ধরা হয়েছে। বহু ধর্মকর্ম করেও পুত্র না হওয়ায় রাজা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েন। একদিন বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি এক সরোবরে মুনি-ঋষিদের কাছে পৌঁছান। তাঁরা তাঁকে জানান যে সেদিনই পুত্রদা একাদশী, এবং ভগবান কেশবের অনুগ্রহে এই ব্রত পালনে পুত্রলাভ সম্ভব। রাজা যথাবিধানে ফলমূল আহার করে উপবাস করেন, পরদিন দ্বাদশীতে পারণ করেন, এবং পরে তাঁর তেজস্বী পুত্র লাভ হয়। নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে মানুষ ‘পুত’ নামক নরক থেকে মুক্তি পায়, আর এই মাহাত্ম্য শ্রবণ ও কীর্তন করলেও অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল মেলে।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী পৌষ পুত্রদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
স্মার্ত মতে
- পৌষ পুত্রদা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১৭ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ২রা মাঘ ১৪৩৩), রবিবার শেষরাত্রি ৫টা ৩৮ মিনিট (05:38 AM) থেকে।
- পৌষ পুত্রদা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ১৮ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৩রা মাঘ ১৪৩৩), সোমবার রাত্রি ৩টা ৪৫ মিনিট (03:45 AM) পর্যন্ত।
- পৌষ পুত্রদা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ১৮ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৩রা মাঘ ১৪৩৩), সোমবার।
- পৌষ পুত্রদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার সকাল ১০টা ০১ মিনিট (10:01 AM) এর মধ্যে।
গোস্বামী ও নিম্বার্ক মতে
- একাদশীর দিনঃ ইংরেজি ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার।
- একাদশীর পারণঃ ইংরেজি ২০শে জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৫ই মাঘ ১৪৩৩), বুধবার সকাল ১০টা ০১ মিনিট (10:01 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পৌষ পুত্রদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
স্মার্ত মতে
- পৌষ পুত্রদা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১৭ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৩রা মাঘ ১৪৩৩), রবিবার শেষরাত্রি ৬টা ০৬ মিনিট (06:06 AM) থেকে।
- পৌষ পুত্রদা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ১৮ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা মাঘ ১৪৩৩), সোমবার রাত্রি ৪টা ১৪ মিনিট (04:14 AM) পর্যন্ত।
- পৌষ পুত্রদা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ১৮ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা মাঘ ১৪৩৩), সোমবার।
- পৌষ পুত্রদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৫ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (10:30 AM) এর মধ্যে।
গোস্বামী ও নিম্বার্ক মতে
- একাদশীর দিনঃ ইংরেজি ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৫ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার।
- একাদশীর পারণঃ ইংরেজি ২০শে জানুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৬ই মাঘ ১৪৩৩), বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (10:30 AM) এর মধ্যে।
একাদশী তালিকা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (মাঘ/ফাল্গুন, ১৪৩৩) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
ষটতিলা একাদশী ২০২৭
ষটতিলা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্যে বলা হয়েছে, মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশী ভবিষ্যোত্তরপুরাণে বর্ণিত এক বিশেষ পবিত্র ব্রত। যুধিষ্ঠিরের প্রশ্নের উত্তরে এই ব্রতের বিধি ও ফল ব্যাখ্যা করা হয়। এখানে শুচি ও সংযমী হয়ে স্নান, শ্রীকৃষ্ণপূজা, রাত্রিতে হোম, চন্দন-অগুরু-কপুর-শর্করা ইত্যাদি দিয়ে নৈবেদ্য অর্পণ, এবং কালো তিলের মাধ্যমে স্নান, দান, তিলভোজন, তর্পণ ও তিলধারণের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। “ষটতিলা” নামের কারণও এই ছয় প্রকার তিল-সংক্রান্ত আচরণ। এই একাদশীর ব্রতকথায় এক ব্রাহ্মণীর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে, যিনি বহু ব্রত করলেও অন্নদান ও ভিক্ষাদান করেননি। পরে তিলব্রতের মহিমায় তিনি স্বর্গ, ঐশ্বর্য ও দেবপত্নীদের আশীর্বাদ লাভ করেন। এই ব্রত অহংকার ত্যাগ, দানশীলতা, সংযম এবং ভক্তির মাধ্যমে পাপক্ষয়, দারিদ্র্যনাশ ও কল্যাণপ্রাপ্তির শিক্ষা দেয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী ষটতিলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ষটতিলা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১লা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৭ই মাঘ ১৪৩৩), সোমবার সকাল ১১টা ১১ মিনিট (11:11 AM) থেকে।
- ষটতিলা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ২রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিট (12:51 PM) পর্যন্ত।
- ষটতিলা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ২রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার।
- ষটতিলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৩রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই মাঘ ১৪৩৩), বুধবার সকাল ১০টা ০২ মিনিট (10:02 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ষটতিলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ষটতিলা একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১লা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই মাঘ ১৪৩৩), সোমবার সকাল ১১টা ৩৯ মিনিট (11:39 AM) থেকে।
- ষটতিলা একাদশী শেষঃ ইংরেজি ২রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২০ মিনিট (13:20 PM) পর্যন্ত।
- ষটতিলা একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ২রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই মাঘ ১৪৩৩), মঙ্গলবার।
- ষটতিলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৩রা ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ২০শে মাঘ ১৪৩৩), বুধবার সকাল ১০টা ৩১ মিনিট (10:31 AM) এর মধ্যে।
জয়া বা ভৈমী একাদশী ২০২৭
ভৈমী বা জয়া একাদশীর মাহাত্ম্যে বলা হয়েছে, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের এই পবিত্র তিথি ‘জয়া’ নামে প্রসিদ্ধ এবং ভবিষ্যোত্তর পুরাণে যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংলাপের মাধ্যমে এর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের ভাষ্যে এই একাদশী সর্বপাপবিনাশিনী, পবিত্রা, সর্বকামপ্রদায়িনী এবং মুক্তিদায়িনী; এমনকি এর প্রভাবে প্রেতত্ব প্রাপ্তিও ঘটে না। একদা স্বর্গে ইন্দ্রের সভায় মাল্যবান ও পুষ্পবন্তী একে অপরের প্রতি মোহিত হয়ে নৃত্য-গীতে বিঘ্ন ঘটায়। এতে ক্রুদ্ধ ইন্দ্র তাঁদের পিশাচযোনির অভিশাপ দেন। পরে তাঁরা হিমালয়ে দুঃখে ও শীতে কাতর হয়ে দিন কাটাতে থাকেন এবং নিজেদের পূর্বপরিচয়ও প্রায় ভুলে যান। এরপর মাঘী শুক্লপক্ষীয়া জয়া একাদশী উপস্থিত হলে তাঁরা অশ্বত্থতলে নিরাহার ও নির্জলভাবে রাত্রি জাগরণসহ ব্রত পালন করেন। ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় তাঁদের পিশাচত্ব দূর হয়, তাঁরা পূর্বরূপ ফিরে পান এবং স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেন। ইন্দ্রও তখন এ ব্রতের মহিমা স্বীকার করেন। মোটকথা, জয়া একাদশী ব্রত ভক্তি, সংযম, রাত্রি-জাগরণ ও উপবাসের মাধ্যমে পাপক্ষয় ঘটিয়ে শেষে বৈকুণ্ঠপ্রাপ্তির পথ খুলে দেয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী জয়া বা ভৈমী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ভৈমী বা জয়া একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১৬ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৩রা ফাল্গুন ১৪৩৩), মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিট (16:40 PM) থেকে।
- ভৈমী বা জয়া একাদশী শেষঃ ইংরেজি ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩৩), বুধবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিট (14:23 PM) থেকে।
- ভৈমী বা জয়া একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩৩), বুধবার।
- ভৈমী বা জয়া একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৫ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট (09:59 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী জয়া বা ভৈমী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ভৈমী বা জয়া একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১৬ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৩রা ফাল্গুন ১৪৩৩), মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ০৯ মিনিট (17:09 PM) থেকে।
- ভৈমী বা জয়া একাদশী শেষঃ ইংরেজি ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩৩), বুধবার দুপুর ২টা ৫২ মিনিট (14:52 PM) থেকে।
- ভৈমী বা জয়া একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩৩), বুধবার।
- ভৈমী বা জয়া একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৭ (বাংলা ৫ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিট (10:28 AM) এর মধ্যে।
একাদশী তালিকা মার্চ, ২০২৭ (ফাল্গুন/চৈত্র, ১৪৩৩) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
বিজয়া একাদশী ২০২৭
বিজয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্যে স্কন্দপুরাণের প্রসঙ্গ ধরে যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংলাপের মাধ্যমে এই পবিত্র তিথির গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশী ‘বিজয়া’ নামে পরিচিত, কারণ এটি মানুষকে জয়, সাফল্য এবং পাপক্ষয় দান করে। এই ব্রতের মাহাত্ম্য নারদ ও ব্রহ্মার আলোচনার সূত্রেও তুলে ধরা হয়েছে। শ্রীরামচন্দ্র সীতাহরণ-পরবর্তী সময়ে সাগর পার হয়ে লঙ্কাজয়ের উপায় জানতে বকদালভ্য মুনির আশ্রমে যান। মুনি তাঁকে বিজয়া একাদশীর বিধি জানিয়ে বলেন, যথাবিধি উপবাস, কলসস্থাপন, নারায়ণপূজা, হরিকথা শ্রবণ, রাত্রি জাগরণ এবং দ্বাদশীতে কলস বিসর্জন করলে অবশ্যই বিজয়লাভ হবে। এই ব্রত পালনের ফলেই শ্রীরামচন্দ্র সীতাপ্রাপ্তি, লঙ্কাজয় ও রাবণবধে সফল হন। যে ব্যক্তি ভক্তি, নিয়ম, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিজয়া একাদশী পালন করেন, তিনি ইহলোকে জয় এবং পরলোকে অক্ষয় সুখ লাভ করেন।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিজয়া একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- বিজয়া একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ২রা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৭ই ফাল্গুন ১৪৩৩), মঙ্গলবার শেষরাত্রি ৫টা ৪৮ মিনিট (05:48 AM) থেকে।
- বিজয়া একাদশী শেষঃ ইংরেজি ৪ঠা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট (07:55 AM) পর্যন্ত।
- বিজয়া একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ৪ঠা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার।
- বিজয়া একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৫ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ২০শে ফাল্গুন ১৪৩৩), শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৩ মিনিট (07:53 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিজয়া একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- বিজয়া একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ২রা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৭ই ফাল্গুন ১৪৩৩), মঙ্গলবার শেষরাত্রি ০৬টা ১৭ মিনিট (06:17 AM) থেকে।
- বিজয়া একাদশী শেষঃ ইংরেজি ৪ঠা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিট (08:23 AM) পর্যন্ত।
- বিজয়া একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ৪ঠা মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই ফাল্গুন ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার।
- বিজয়া একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৫ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ২০শে ফাল্গুন ১৪৩৩), শুক্রবার সকাল ১০টা ২২ মিনিট (10:22 AM) এর মধ্যে।
আমলকী বা আমলকীব্রত একাদশী ২০২৭
আমলকী বা আমলকীব্রত একাদশীর মাহাত্ম্যে বলা হয়েছে যে ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশী বিষ্ণুলোক প্রদানকারী এক পবিত্র ব্রত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে জ্ঞানদান করেছিলেন যে, এই তিথিতে আমলকী বৃক্ষের তলে রাত্রি জাগরণ করলে সহস্র গাভী দানের ফল লাভ হয়, আর শুধু স্মরণ, দর্শন ও ফলভক্ষণেও অশেষ পুণ্য অর্জিত হয়। এই একাদশীর ব্রত কাহিনিতে আমলকী বৃক্ষকে অত্যন্ত মহিমান্বিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার উৎপত্তি ব্রহ্মার রাত্রির প্রলয়ের পর ভগবানের মুখপদ্ম থেকে পতিত এক বিন্দু জলের মাধ্যমে, এবং সেই বৃক্ষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। এই একাদশীর ব্রতকথায় রাজা চৈত্ররথের রাজ্যে বিষ্ণুভক্ত প্রজারা কীভাবে এই ব্রত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন, তার সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়।
একদিন রাজা ও প্রজারা মিলে শ্রীবিষ্ণুমন্দিরে আমলকী পূজা, ধূপ-দীপ, স্তবস্তুতি, নৃত্য-গীত ও রাত্রি জাগরণ করেন; সেই সময় এক ব্যাধও সেখানে উপস্থিত হয়ে উপবাস ও জাগরণের প্রভাবে পরবর্তীতে রাজা হয়ে জন্ম নেয়। আরও পরে ব্যাধরূপে জন্ম নেওয়া বসুরথ রাজা যখন জঙ্গলে শত্রুদের আক্রমণের মুখে পড়েন, তখন তাঁর শরীর থেকে এক পরমা সুন্দরী শক্তিময়ী নারী আবির্ভূত হয়ে শত্রুদের ধ্বংস করেন, এবং দৈববাণীতে বলা হয় যে শরণাগতকে রক্ষা করার জন্য কেশব ছাড়া আর কেউ নেই। শেষ পর্যন্ত বশিষ্ঠ মুনি ঘোষণা করেন, এই পরম উত্তম আমলকী একাদশী ব্রত পালনকারী নিঃসন্দেহে বিষ্ণুলোক লাভ করেন।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী আমলকী বা আমলকীব্রত একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
স্মার্ত ও গোস্বামী মতে
- আমলকী একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১৭ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ২রা চৈত্র ১৪৩৩), বুধবার রাত্রি ২টা ২৬ মিনিট (02:26 AM) থেকে।
- আমলকী একাদশী শেষঃ ইংরেজি ১৮ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ৩রা চৈত্র ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার রাত্রি ১১টা ৫৩ মিনিট (11:53 AM) পর্যন্ত।
- আমলকী একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ১৮ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ৩রা চৈত্র ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার।
- আমলকী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ১৯ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা চৈত্র ১৪৩৩), শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট (09:46 AM) এর মধ্যে।
নিম্বার্ক মতে
- একাদশীর দিনঃ ইংরেজি ১৯ই মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ৪ঠা চৈত্র ১৪৩৩), শুক্রবার।
- একাদশীর পারণঃ ইংরেজি ২০শে মার্চ, ২০২৭ (বাংলা ৫ই চৈত্র ১৪৩৩), শনিবার সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট (09:46 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আমলকী বা আমলকীব্রত একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
একাদশী তালিকা এপ্রিল, ২০২৭ (চৈত্র/বৈশাখ, ১৪৩৩/১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
পাপমোচনী একাদশী ২০২৭
পাপমোচনী একাদশীর মাহাত্ম্য জানতে মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রশ্ন করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, “চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশীর নাম পাপমোচনী একাদশী। এই একাদশী সকল পাপ নাশ করে, তাই এর নাম পাপমোচনী।” লোমশ মুনির মুখে শোনা এক প্রাচীন কাহিনি অনুসারে মেধাবী নামের এক ঋষিকুমার মঞ্জুঘোষা অপ্সরার মোহে তপস্যা ও সংযম হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘকাল সংসর্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে মুনির শাপে অপ্সরা যখন পিশাচতুল্য হয়, তখন তাকে পাপমোচনী একাদশী পালনের উপদেশ দেওয়া হয়। মেধাবীও পিতার নির্দেশে ব্রত পালন করে পাপমুক্ত হন, আর মঞ্জুঘোষাও সেই ব্রতের ফলে মুক্তি পেয়ে স্বর্গে গমন করে। এই একাদশী পালন করলে পূর্বসঞ্চিত পাপ ক্ষয় হয়, আর এর কথা শোনা ও পাঠ করলেও সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী পাপমোচনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
স্মার্ত ও গোস্বামী মতে
- পাপমোচনী একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১লা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৭ই চৈত্র ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার রাত্রি ১১টা ৫৭ মিনিট (23:57 AM) থেকে।
- পাপমোচনী একাদশী শেষঃ ইংরেজি ২রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই চৈত্র ১৪৩৩), Friday রাত্রি ১টা ৪৯ মিনিট (01:49 AM) পর্যন্ত।
- পাপমোচনী একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ২রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই চৈত্র ১৪৩৩), শুক্রবার।
- পাপমোচনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৩রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৯শে চৈত্র ১৪৩৩), শনিবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিট (09:38 AM) এর মধ্যে।
নিম্বার্ক মতে
- একাদশীর দিনঃ ইংরেজি ৩রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৯শে চৈত্র ১৪৩৩), শনিবার।
- একাদশীর পারণঃ ইংরেজি ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ২০শে চৈত্র ১৪৩৩), রবিবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিট (09:38 AM) এর মধ্যে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পাপমোচনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৩) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
স্মার্ত ও গোস্বামী মতে
- পাপমোচনী একাদশী আরম্ভঃ ইংরেজি ১লা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৮ই চৈত্র ১৪৩৩), বৃহস্পতিবার রাত্রি ১২টা ২৬ মিনিট (00:26 AM) থেকে।
- পাপমোচনী একাদশী শেষঃ ইংরেজি ২রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই চৈত্র ১৪৩৩), শুক্রবার রাত্রি ২টা ১৮ মিনিট (02:18 AM) পর্যন্ত।
- পাপমোচনী একাদশীর উপবাসঃ ইংরেজি ২রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ১৯ই চৈত্র ১৪৩৩), শুক্রবার।
- পাপমোচনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ ইংরেজি ৩রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ২০শে চৈত্র ১৪৩৩), শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিট (08:40 AM) গতে ও সকাল ১০টা ০৮ মিনিট (10:08 AM) এর মধ্যে।
নিম্বার্ক মতে
- একাদশীর দিনঃ ইংরেজি ৩রা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ২০শে চৈত্র ১৪৩৩), শনিবার।
- একাদশীর পারণঃ ইংরেজি ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৭ (বাংলা ২১শে চৈত্র ১৪৩৩), রবিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিট (08:40 AM) গতে ও সকাল ১০টা ০৮ মিনিট (10:08 AM) এর মধ্যে।
কামদা একাদশী ২০২৭
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের কামদা একাদশীর মাহাত্ম্য ভক্তিময় ও উপাখ্যানধর্মী ভঙ্গিতে মহারাজ যুধিষ্ঠিরের কাছে বর্ণনা করেছিলেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এই ব্রতের মাহাত্ম্য হিসেবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বশিষ্ঠ মুনির বর্ণিত একটি কাহিনী মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে শুনিয়েছিলেন। ব্রত কাহিনি থেকে জানা যায়, নাগপুরের গন্ধর্ব দম্পতি ললিত ও ললিতার কথা। রাজসভায় গাইতে গিয়ে ললিত স্ত্রীর কথা মনে করে তাল-লয় হারান, ফলে নাগরাজ পুন্ডরীকের ক্রোধে তিনি ভয়ংকর রাক্ষস শরীর লাভ করেন। তাঁর স্ত্রী ললিতা স্বামীর এই দুর্দশায় ব্যথিত হয়ে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রমে যায়। মুনি তাকে কামদা একাদশী পালন করে সেই পূণ্য স্বামীর উদ্দেশ্যে অর্পণ করতে বলেন। ললিতা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলে ললিতের শাপমোচন হয়, সে আবার দিব্য গন্ধর্বদেহ পায় এবং দু’জনে বিমানে গন্ধর্বলোকে ফিরে যায়। এই একাদশী পাপনাশক, পিশাচত্বমোচনকারী, এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে পাঠ ও শ্রবণ করলে মহাপুণ্য লাভ হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী কামদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- কামদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী কামদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- কামদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা মে, ২০২৭ (বৈশাখ/জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
বরুথিনী একাদশী ২০২৭
বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী ব্রত, বরুথিনী একাদশীর মাহাত্ম্য ভবিষ্যোত্তর পুরাণে যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংলাপের মাধ্যমে বর্ণিত। শ্রীকৃষ্ণের তাঁর ভাষ্যে বলেন, “এই ব্রত ইহলোক ও পরলোক উভয় ক্ষেত্রেই সুখ, সৌভাগ্য, পাপক্ষয় এবং ভক্তি-মুক্তি প্রদান করে।” এমনকি দুর্ভাগা স্ত্রীলোকের জন্যও এটি বিশেষ কল্যাণকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্রতের প্রভাবে মান্ধাতা, ধুন্ধুমার প্রভৃতি রাজা যেমন দিব্যধাম লাভ করেছিলেন, তেমনি মহাদেব শিবও এই ব্রত পালন করেছিলেন বলে জানা যায়। এই ব্রত পালনের ক্ষেত্রে দশমী, একাদশী ও দ্বাদশীতে কিছু খাদ্য ও আচরণ বর্জন করা উচিত। যেমন নির্দিষ্ট ভোজন, মাংস, মধু, মিথ্যাভাষণ, দিবানিদ্রা, দ্যুৎক্রীড়া, ক্রোধ, চুরি ও মৈথুন ইত্যাদি। শুদ্ধ নিয়মে হরিবাসরে রাত্রিজাগরণ করে জনার্দনের পূজা করলে এই ব্রতপ্রভাবে সর্বপাপ নাশ হয় এবং পরমগতি লাভ হয়। শ্রদ্ধাভরে এই ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল পাওয়া যায় এবং বিষ্ণুলোকে গতি হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী বরুথিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- বরুথিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বরুথিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- বরুথিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- বরুথিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
মোহিনী একাদশী ২০২৭
“মোহিনী” শব্দটি “মোহ” থেকে এসেছে; তাই এই একাদশী সংসারের মায়া, ভ্রান্ত আকর্ষণ ও পাপবন্ধন কাটিয়ে জীবকে শুদ্ধ পথের দিকে নিয়ে যায়। এই ব্রতের ব্রতকথায় বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে দুর্বাসার অভিশাপে দেবতারা সংকটে পড়েন, পরে সমুদ্র মন্থন থেকে অমৃত ওঠে, এবং সেই অমৃত রক্ষার জন্য ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে অসুরদের বিভ্রান্ত করেন। এই মোহিনী রূপের স্মৃতিতেই মোহিনী একাদশীর তিথি বিশেষ পবিত্র বলে বর্ণিত হয়েছে। কুর্মপুরাণভিত্তিক আলোচনা, যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংলাপ, এবং রামায়ণের প্রসঙ্গ থেকে বলা হয়েছে যে বৈশাখ শুক্লপক্ষের এই একাদশী সঠিকভাবে পালন করলে বহু জন্মের সঞ্চিত পাপ, দুঃখ ও মোহমায়া নষ্ট হয়। ধৃষ্টবুদ্ধি নামের এক পাপাচারী ব্যক্তি যে চরমভাবে অধঃপতিত হয়েছিলেন, তিনিও এই ব্রতের প্রভাবে পরিশুদ্ধ হয়ে বৈকুণ্ঠলাভ করেছিলেন। প্রাতঃস্নান, শুদ্ধবস্ত্র, বিষ্ণুপূজা, নামসংকীর্তন, ভোগ-নৈবেদ্য, সংযম, এবং পরদিন ব্রাহ্মণকে দান করে পারণ করা ইত্যাদি এই ব্রতের প্রধান উপাদান।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী মোহিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- মোহিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী মোহিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- মোহিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- মোহিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা জুন, ২০২৭ (জ্যৈষ্ঠ/আষাঢ়, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
অপরা একাদশী ২০২৭
জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অপরা একাদশী অত্যন্ত পুণ্যদায়ী, মহাপাপনাশক এবং মুক্তিদায়িনী ব্রত। রাজা যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য জানতে চাইলে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে মানুষের কল্যাণের জন্য এটি এক বিশেষ ব্রত, যা পালন করলে জগতে খ্যাতি লাভ হয় এবং ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, ভ্রূণহত্যা, পরনিন্দা, পরস্ত্রীগমন ও মিথ্যাভাষণের মতো গুরুতর পাপও নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি মিথ্যাসাক্ষ্যদান, ওজন-প্রতারণা, শাস্ত্রের মিথ্যা ব্যাখ্যা, মিথ্যা জ্যোতিষচর্চা বা মিথ্যা চিকিৎসার মতো পাপাচারী জীবন থেকেও এই ব্রতের মাধ্যমে মুক্তি মিলতে পারে। অপরা একাদশীর ফল এতই মহান যে তা মাঘস্নান, শিবরাত্রির উপবাস, গয়ায় পিণ্ডদান, কেদারদর্শন, বদ্রীযাত্রা, সূর্যগ্রহণে কুরক্ষেত্রে স্নান, যজ্ঞ, দান, এমন বহু তীর্থ ও ধর্মকর্মের ফলের সমতুল্য বলে বর্ণিত। এই ব্রত পাপরূপ বৃক্ষের কুঠার, অন্ধকারে সূর্য, আর পাপহস্তির বিরুদ্ধে সিংহের মতো শক্তিশালী বলে চিত্রিত হয়েছে। বলা হয়েছে, অপরা একাদশীতে উপবাস করে বিষ্ণুপূজা করলে সর্বপাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং বিষ্ণুলোকে গতি হয়। এমনকি এই ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করলেই সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী অপরা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- অপরা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী অপরা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- অপরা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অপরা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী ২০২৭
ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশীকে বৈষ্ণব সমাজে অত্যন্ত মহাপুণ্যফলদাতা ব্রত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশীকে নির্জলা একাদশীও বলা হয়, আর মহাভারতের ভীমসেন এই ব্রত পালন করেছিলেন বলেই এটি পাণ্ডবা বা ভীমসেনী একাদশী নামে প্রসিদ্ধ। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের ভীম-ব্যাস সংলাপের মাধ্যমে জানা যায়, কলিযুগে সব ধর্মকর্ম কঠিন হলেও এই একাদশী অল্প কষ্টে, উপবাসের মাধ্যমে, অসীম ফল দেয়। শ্রীব্যাসদেব যুধিষ্ঠিরকে এই একাদশীতে ভোজন বর্জন, দ্বাদশীতে স্নান-শ্রীকৃষ্ণ পূজা, ব্রাহ্মণ ভোজন করানো এবং শুচিশুদ্ধ আচরণ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই একাদশী এতটাই মহিমান্বিত যে, দুষ্টপ্রবৃত্তির মানুষও এই ব্রতে যমযন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে পারে। ভীমসেনের প্রবল ক্ষুধার কারণে তাঁর পক্ষে সব একাদশী পালন করা ছিল না। তাই ব্যাসদেব তাঁকে বিশেষভাবে জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের নির্জলা উপবাসের কথা জানান। এই তিথিতে সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশী সূর্যাস্ত পর্যন্ত জলপান না করলে বারোটি একাদশীর ফল লাভ হয়, আগের ব্রতভঙ্গের দোষও দূর হয়, এবং ভক্তিসহকারে এই মাহাত্ম্য শ্রবণ বা পাঠ করলে বৈকুণ্ঠপ্রাপ্তি ঘটে।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ভীমসেনী বা পাণ্ডবা নির্জলা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা জুলাই, ২০২৭ (আষাঢ়/শ্রাবণ, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
যোগিনী একাদশী ২০২৭
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের যোগিনী একাদশী মাহাত্ম্য থেকে জানা যায়, আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশী ব্রতের পবিত্র মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। যুধিষ্ঠিরের প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ এই একাদশী সর্বপাপ নাশকারী, মুক্তিদায়ক এবং সংসারসাগর থেকে উদ্ধার লাভের এই মহাশক্তিশালী ব্রতের মহিমা বর্ণনা করেছিলেন। এইএকাদশী শুধুমাত্র একটি উপবাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ঈশ্বরকৃপা লাভের সবচেয়ে সুলভ পথ। এই একদাওশীর ব্রতকথা থেকে জানা যায়, অলকা নগরের শিবভক্ত কুবেরের মালী হেমমালী স্ত্রীসঙ্গের মোহে শিবপূজার ফুল আনতে দেরি করায় রাজশাপে কুষ্ঠরোগে ভোগেন। পরে তিনি মার্কণ্ডেয় ঋষির আশ্রমে গিয়ে করুণাপ্রাপ্ত হন এবং ঋষির উপদেশে যোগিনী একাদশী ব্রত পালন করলে রোগমুক্তি লাভ করেন ও আবার সুখী জীবন পান। এই ব্রতের প্রভাবে বহু ব্রাহ্মণভোজনের ফল মেলে এবং অনন্ত পাপক্ষয় ঘটে।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী যোগিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- যোগিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী যোগিনী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- যোগিনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- যোগিনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
শয়ন বা শ্রী শ্রী হরিশয়নী একাদশী ২০২৭
মহারাজ যুধিষ্ঠিরের প্রশ্নের উত্তরে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী, অর্থাৎ শয়ন বা শ্রী শ্রী হরিশয়নী একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তিনি মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে ভগবান ব্রহ্মার উপদেশ স্মরণ করিয়ে বলেন যে, এই একাদশী ব্রত সকল পাপ নাশকারী ও বিষ্ণুভক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। এই একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্যে রাজর্ষি মান্ধাতার কাহিনীও তুলে ধরা হয়েছে। রাজা মান্ধাতার রাজ্যে দীর্ঘ তিন বছর বৃষ্টি না হওয়ায় দুর্ভিক্ষ, অন্নাভাব, বেদপাঠের ব্যাঘাত ও জনদুঃখ দেখা দেয়। প্রজাদের কল্যাণে রাজা ঋষি অঙ্গিরার শরণাপন্ন হলে তিনি শয়ন একাদশী ব্রত পালনের পরামর্শ দেন। রাজা প্রজাসহ নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলে প্রচুর বৃষ্টি হয়, দুর্ভিক্ষ দূর হয় এবং রাজ্যে আবার শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসে। তাই শ্রদ্ধাভরে এই ব্রত পালন করলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় সকল সংকটের অবসান সম্ভব।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী শয়ন বা শ্রী শ্রী হরিশয়নী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শয়ন বা শ্রী শ্রী হরিশয়নী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শয়ন বা হরিশয়নী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা আগস্ট, ২০২৭ (শ্রাবণ/ভাদ্র, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
কামিকা একাদশী ২০২৭
কামিকা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্যে কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর পবিত্রতা, এর ব্রতবিধি এবং অসীম ফলশ্রুতি ভক্তিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ-সংবাদের মাধ্যমে বলা হয়েছে যে, একসময় দেবর্ষি নারদের প্রশ্নের উত্তরে ভগবান ব্রহ্মা এই একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এই ব্রত পালন করলে বাজপেয় যজ্ঞের ফলের সমান পুণ্য, সকল তীর্থদর্শনের ফল, গবাদি ও ভূদানজনিত পুণ্য, এমনকি বহু জন্মের পাপক্ষয়ের সুযোগও লাভ হয়। এই একাদশীতে বিশেষভাবে তুলসীপত্রে শ্রীহরির পূজা, রাত্রি জাগরণ, এবং ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণস্মরণ করাকে অত্যন্ত মহিমান্বিত করা হয়েছে। এই একাদশী বিষ্ণুভক্তি, আত্মশুদ্ধি এবং পাপমুক্তির এক মহান সাধনা। শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন ও মাহাত্ম্য শ্রবণ করলে শেষপর্যন্ত ভক্ত বিষ্ণুলোকে গমন করেন।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী কামিকা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- কামিকা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী কামিকা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- কামিকা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- কামিকা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
শ্রাবণ পুত্রদা বা পবিত্রা বা পবিত্রারোপণ বা পবিত্রারোপণী একাদশী ২০২৭
শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিটি শ্রাবণ পুত্রদা বা পবিত্রা বা পবিত্রারোপণ বা পবিত্রারোপণী একাদশী নামে জগতে প্রসিদ্ধা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে বলেছিলেন যে, শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশী শ্রবণমাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের সমতুল্য পুণ্য দেয়। এই ব্রতের ব্রতকথায় মহারাজ মহীজিতের করুণ কাহিনি জানা যায়। তিনি ধর্মপরায়ণ ও প্রজাবৎসল হলেও নিঃসন্তান হওয়ায় গভীর দুঃখে দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রজারা তাঁর কষ্ট দূর করতে ত্রিকালজ্ঞ ঋষি লোমশের শরণাপন্ন হলে, লোমশ মুনি পূর্বজন্মের একটি পাপের কথা জানান এবং বলেন যে পবিত্রারোপণী একাদশী ব্রতই সেই দুঃখের প্রতিকার। রাজা ও প্রজারা মিলিতভাবে ব্রত পালন করলে তার পুণ্যফলে রাণী গর্ভবতী হন এবং এক বলিষ্ঠ, সুন্দর পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তাই এই একাদশী ব্রত শ্রদ্ধা, শুদ্ধি ও ভক্তির পথে পাপক্ষয়, পুত্রসুখ এবং শেষ পর্যন্ত দিব্যধাম লাভের পথ দেখায়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী শ্রাবণ পুত্রদা বা পবিত্রা বা পবিত্রারোপণ বা পবিত্রারোপণী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শ্রাবণ পুত্রদা বা পবিত্রা বা পবিত্রারোপণ বা পবিত্রারোপণী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা সেপ্টেম্বর, ২০২৭ (ভাদ্র/আশ্বিন, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
অজা বা অন্নদা একাদশী ২০২৭
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে থেকে জানা যায় ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অজা বা অন্নদা একাদশী সর্বপাপবিনাশিনী। শুধু ব্রত পালনই নয়, এর মাহাত্ম্য শ্রবণ করলেও বিপুল পুণ্য লাভ হয়। এই ব্রতের ব্রতকথায় রাজা হরিশ্চন্দ্রের করুণ ও নৈতিক শক্তিতে ভরা কাহিনী আলোচনা করা হয়েছে। তিনি সত্যবাদী, দানশীল ও ধর্মপরায়ণ হলেও ঋষি বিশ্বামিত্রের পরীক্ষায় সব কিছু হারান, এমনকি স্ত্রী শৈব্যা ও পুত্র রোহিতাশ্বকেও কঠিন দুর্দশার মুখে পড়তে হয়। শ্মশানে কষ্ট, পুত্রশোক, আর সর্বস্বত্যাগের শেষে রাজা যখন চরম দুঃখে ভেঙে পড়েন, তখনই বিশ্বামিত্রের উপদেশে অজা একাদশী ব্রত তাঁকে নতুন আশার আলো দেখায়। ব্রত পালনের ফলে তাঁর পাপ দূর হয়, পুত্র ফিরে আসে, দেবতারা পুষ্পবর্ষণ করেন, এবং শেষে তিনি স্বর্গলোকে গমন করেন। তাই সত্য, ত্যাগ, ও ধৈর্য নিয়ে অজা বা অন্নদা একাদশী ব্রত পালন করলে সকল দুঃখের অবসান সম্ভব।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী অজা বা অন্নদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- অজা বা অন্নদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী অজা বা অন্নদা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- অজা বা অন্নদা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- অজা বা অন্নদা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
পদ্মা বা পার্শ্ব বা পার্শ্ব পরিবর্তনী বা জয়ন্তী একাদশী ২০২৭
ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয় পদ্মা, পার্শ্ব, পার্শ্ব পরিবর্তনী বা পরিবর্তিনী একাদশী। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, আষাঢ় শুক্ল একাদশীতে বিষ্ণুর শয়ন, ভাদ্র শুক্ল একাদশীতে তাঁর পার্শ্ব পরিবর্তন, আর কার্তিক শুক্ল একাদশীতে যোগনিদ্রা থেকে জাগরণ, এই তিনটি তিথি অত্যন্ত শুভ। এবং এর সঙ্গে চাতুর্মাস্য ব্রতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চাতুর্মাস্যে হরিনাম জপ, গীতা-ভাগবত শ্রবণ, তর্ক ও অসৎসঙ্গ বর্জন, প্রত্যূষে স্নান, শ্রীহরি-সেবা এবং সংযত জীবনযাপনের উপদেশ দেওয়া হয়েছে আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রগ্রন্থে। একইসঙ্গে, শ্রাবণে শাক, ভাদ্রে দই, আশ্বিনে দুধ, কার্তিকে মাষকলাই ইত্যাদি বর্জনের বিধানও উল্লেখ আছে। এই একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য থেকে জানা যায়, ব্রতহীন জীবন দুঃখ ও অনাবৃষ্টি ডেকে আনে, আর শাস্ত্রসম্মত নিয়মে চাতুর্মাস্য পালন করলে মন, শরীর ও প্রাণ সুন্দর হয় এবং লক্ষ্মীকৃপা লাভ হয়। বলা হয়, ভাদ্র শুক্ল একাদশীতে শ্রীবামনদেবের পূজা ও পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশী পালন করলে অশেষ পুণ্য, এমনকি সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের ফলও পাওয়া যায়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী পদ্মা বা পার্শ্ব বা পার্শ্ব পরিবর্তনী বা জয়ন্তী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পদ্মা বা পার্শ্ব বা পার্শ্ব পরিবর্তনী বা জয়ন্তী একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পদ্মা বা পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা অক্টোবর, ২০২৭ (আশ্বিন / কার্ত্তিক, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
ইন্দিরা একাদশী ২০২৭
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের মহাপবিত্র একাদশীকে “ইন্দিরা একাদশী” বলা হয়। এই ব্রত অসংখ্য পাপ নাশ করে, এমনকি পূর্বপুরুষদেরও উত্তম গতি প্রদান করে। ব্রতকাহিনীতে মাহিষ্মতির রাজা ইন্দ্রসেনের কথা জানা যায়, যিনি ধর্মপরায়ণ, বিষ্ণুভক্ত এবং ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে এসে তাঁকে জানান যে, যমলোকে তাঁর পিতার আত্মা ব্রতভঙ্গের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন এবং মুক্তির জন্য ইন্দিরা একাদশী পালন জরুরি। এরপর নারদ ব্রতের সঠিক বিধি রাজা ইন্দ্রসেনকে বর্ণনা করেন। দশমীতে সংযম, একাদশীতে নিরাহার উপবাস, শালগ্রাম ও শ্রীহরির পূজা, এবং দ্বাদশীতে ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে ব্রত সমাপন, এই ছিল নারদের বর্ণনা অনুসারে ইন্দিরা একাদশীর বিধি। রাজা সেই বিধি যথাযথভাবে পালন করলে তাঁর পিতা মুক্তি লাভ করেন এবং বিষ্ণুলোকে গমন করেন। এবং এই একাদশী পালনের প্রভাবে রাজাও দেহান্তে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হন। তাই নিষ্ঠার সঙ্গে ইন্দিরা একাদশী পালন করলে সংসার ও পিতৃকল্যাণ উভয়ই সাধিত হয়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী ইন্দিরা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- ইন্দিরা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ইন্দিরা একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
গোস্বামী ও স্মার্ত মতে
- ইন্দিরা একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- ইন্দিরা একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী ২০২৭
পাশাঙ্কুশা বা পাপাঙ্কুশা একাদশী একটি অতি পবিত্র ও পরম ফলদায়ক ব্রত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে থেকে জানা যায়, আশ্বিন শুক্লপক্ষের একাদশী সম্পর্কে যুধিষ্ঠিরের প্রশ্নের উত্তরে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই একাদশীর ব্রত মাহত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন। শ্রীভগবান বলেছিলেন, “এই তিথিতে মুক্তিদাতা পদ্মনাভ বিষ্ণুর পূজা, নামসংকীর্তন, উপবাস এবং রাত্রিজাগরণ বিশেষ ফলদায়ক।” এই মহা পুণ্যদায়িনী একাদশীতে সত্যিকারের ভক্তি, শুদ্ধ আচরণ, এবং শ্রীহরির শরণাগতি মানুষকে পাপ, যমযন্ত্রণা ও নরকভোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। বলা হয়, এই ব্রত শোনামাত্রও পুণ্য লাভ হয়; দান, জপ, উপবাস, এবং ভক্তিপূর্ণ আচার ভক্তকে স্বর্গ, আরোগ্য, দীর্ঘায়ু, এবং শেষে বৈকুণ্ঠসুখের দিকে নিয়ে যায়। এমনকি অত্যন্ত পাপাচারী মানুষও এই ব্রত পালন করলে মুক্তির পথ পায়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী ২০২৭ (১৪৩৪) এর শুরু, একাদশী শেষ, একাদশীর উপবাসের দিন, একাদশীর পারণের দিন ও একাদশীর পারণের সময়সূচীর তালিকা নিম্নরূপঃ
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী আরম্ভঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশী শেষঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশীর উপবাসঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
- পাশাঙ্কুশা (পাপাঙ্কুশা) একাদশীর পারণের সময়সূচীঃ পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
একাদশী তালিকা নভেম্বর, ২০২৭ (কার্ত্তিক / অগ্রহায়ণ, ১৪৩৪) মাসের একাদশীর সঠিক তিথি, উপবাস ও পারণের সময়ঃ
রমা একাদশী ২০২৭
একদা যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের রমা একাদশী ব্রত সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। মহারাজ যুধিষ্ঠিরের প্রশ্নের উত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, “কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত এই ব্রত মহাপাপ নাশ করে, ভক্তদেরকে বিপুল পরিমান পুণ্য দান করে এবং ভুক্তি-মুক্তি প্রদান করে।” এই ব্রতের কাহিনীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাজা মুচুকুন্দ, রাজকন্যা চন্দ্রভাগা ও চন্দ্রভাগার স্বামী শোভনের কাহিনি বর্ণনা করেন। শোভন রমা একাদশীতে নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাস করতে গিয়ে দেহত্যাগ করেন, কিন্তু ব্রতের প্রভাবে তিনি দেবপুরী লাভ করেন। পরে চন্দ্রভাগার তপস্যা ও ভক্তির শক্তিতে শোভনের নগর স্থির হয় এবং দীর্ঘদিন পরে স্বামী-স্ত্রীর দিব্য মিলন ঘটে। নিয়ম অনুসারে রমা একাদশীতে সামর্থ্য অনুযায়ী দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, এবং দ্বাদশীতে পারণ করা উচিত; না পারলে অন্তত একাদশীতে অনাহার বা ফলাহার/লঘু আহার গ্রহণ করা যায়। একই সঙ্গে পঞ্চ রবিশস্য, কিছু তেল, ডালজাতীয় খাদ্য, নেশাজাত দ্রব্য, প্রসাধনী ব্যবহার, ক্ষৌরকর্ম, এবং একাদশীর দিনে পরনিন্দা-কলহ-অশুচি আচরণ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।



